প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 11, 2026 ইং
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নগরকান্দায় পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নগরকান্দায় পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
মিজানুর রহমান, নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের জিয়াকুলী গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক বাড়ির জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিবাদী মহসীন তালুকদার ও হাবিবুর রহমান গংদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মো. মতিয়ার রহমান তালুকদার জানান, তিনি তার পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষার্থে ভাঙ্গা দেওয়ানী আদালতে গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি ইনজাংশন জারি করান (মোকদ্দমা নং-৮২৬/২৬)। আদালত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিলেও, অভিযোগ রয়েছে যে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিবাদীরা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মতিয়ার রহমান তালুকদার নগরকান্দা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (ভাঙ্গা চৌকি)-এ দেওয়ানী মামলা (নং-৩২৯/২০২০) দায়ের করেন। এতে আরএস ৮৯৫, ৮৯১ ও ৮৯২ দাগে মোট ১৬১ শতাংশ জমির মধ্যে ৫ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট জমির চারপাশে বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া এসএ ৪৫৩ খতিয়ান ও আরএস/বিএস রেকর্ড অনুযায়ী জমির পরিমাণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, বিবাদীরা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানার চেয়ে বেশি জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছে এবং বর্তমানে সেই জমিতে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ করছে।
মতিয়ার রহমান তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, “আমার সাতপুরুষের ভিটেমাটি রক্ষায় আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত ১৪৪ ধারা জারি করলেও বিবাদীরা তা অমান্য করে আমার বসতভিটা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছে। আমি গ্রামে যেতে পারছি না, তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, বিবাদীরা তাকে হয়রানি করতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল, যা আদালতে খারিজ হয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার কামনা করছেন।
এ বিষয়ে বিবাদী হাবিবুর রহমান ও মহসীন তালুকদার বলেন, “আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞার নোটিশ আমরা পাইনি।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
© সর্ব স্বত্ব সংরক্ষিত : ESOMOY